
প্রস্তাবিত ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে মোট জিডিপির মাত্র ২ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন। সংগঠনটির দাবি, দেশের টেকসই উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনের জন্য শিক্ষাখাতে আরও বেশি বিনিয়োগ অপরিহার্য।
শুক্রবার (১২ জুন) এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রফেসর ড. এম কোরবান আলী এবং সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর সাবেক সিনেট সদস্য অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করীম এ প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, শিক্ষাই একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে দীর্ঘদিনের যৌক্তিক প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি। তারা উল্লেখ করেন, ইউনেস্কো-এর মানদণ্ড অনুযায়ী শিক্ষাখাতে জাতীয় জিডিপির অন্তত ৪ থেকে ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া উচিত। সেখানে বর্তমান বাজেটে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা, যা মোট জিডিপির মাত্র ২ শতাংশ।
নেতারা আরও বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ যেমন ভুটান ও নেপাল শিক্ষাখাতে তুলনামূলক বেশি বিনিয়োগ করলেও বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। এর ফলে শিক্ষাব্যয়ের বড় অংশ বহন করতে হচ্ছে অভিভাবকদের, যা দরিদ্র পরিবারের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত করছে।
বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ল্যাব ও গ্রন্থাগারের সংকট এবং শিক্ষার সামগ্রিক মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘাটতির বিষয়ও তুলে ধরা হয়।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ হলেও শিক্ষাখাতে বরাদ্দ সময় ও চাহিদার তুলনায় এখনও অপর্যাপ্ত। তারা মনে করেন, ভৌত অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মানবসম্পদ উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগ না করলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না।
তারা সরকারের প্রতি শিক্ষাখাতে জিডিপির কমপক্ষে ৫ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শিক্ষকদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ ও আকর্ষণীয় বেতন কাঠামো, গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শুধু বরাদ্দ বৃদ্ধি করলেই হবে না; বরাদ্দকৃত অর্থের শতভাগ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। দুর্নীতি, অপচয়, পরিকল্পনার দুর্বলতা ও প্রশাসনিক জটিলতা দূর করে শিক্ষা উপকরণ, গবেষণা ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার মতো গুণগত খাতে যথাযথ ব্যয় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংগঠনটি শিক্ষাখাতে দূরদর্শী সংস্কার, সুশাসন এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের মাধ্যমে একটি দক্ষ ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানায়।